থিসারা আমাকে গালি দিয়েছিল, দেশে ফিরে সোহান

নিদাহাস ট্রফির গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ জয় তুলে নিলেও ম্যাচটি শেষ হয় নানা উত্তেজনার মধ্য দিয়ে।
এই উত্তেজনার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো বাংলাদেশ দলের উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহান ও লঙ্কান খেলোয়াড় থিসারা পেরেরার বাদানুবাদ।
কি কারণে তাদের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়েছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও অনুমান করা হয়েছিল, মাঠেই কিছু বলা হয়েছিল সোহানকে। নয়তো বাংলাদেশ দলের শান্ত ছেলেটি কেনই-বা আঙুল তুলে লঙ্কান অধিনায়ককে শাসাবেন? তাদের দুজনের মুখভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছিল, বাদানুবাদ থেকে বিষয়টি হাতাহাতিতে পৌঁছে যাবে। কিন্তু হয়নি।
ঝামেলা ছিল ‘নো বল’ নিয়ে। সোহান মাঠের আম্পায়ারের সঙ্গে সে বিষয়েই কথা বলছিলেন। মাঝে থিসারা পেরেরার কিছু একটা বলে ওঠায় ক্ষেপে যান সোহান। কিন্তু কী বলেছিলেন থিসারা? গতকাল ফাইনাল খেলে আজ দেশে ফেরা টাইগারদের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের আলাপ হয়। তারই এ ফাঁকে কথা হয় সোহানের সঙ্গে। তখনই জানা গেল তার তীব্র উত্তেজনার মূল কারণ।
সোহান নিজেই জানালেন সেকথা। বললেন, ‘থিসারা আমাকে গালি দিয়েছিল।’ ঘটনার বিবরণ দিয়ে সোহান বলেন, ‘‘আমি মাঠে ঢুকে রিয়াদ ভাইয়ের সাথে কথা বলছিলাম। এমন সময় লেগ আম্পায়ার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন দেখে তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, প্রথম বলটা বাউন্স দেওয়া হয়েছিল কি না। তখন থিসারা এসে বলে, ‘তুমি কথা বলার কে? তুমি যাও। তোমার কথা বলা লাগবে না।’ আমি বলেছি, তোমার সাথে আমি কথা বলছি না। তখন ও আমাকে গালি দিয়েছে। আমি বলেছি, এটা তোমার দেখার বিষয় নয়।’
সোহান আরও বলেন, ‘আমার হয়তবা চুপ থাকা উচিত ছিল। রাগের মাথায় আমিও হয়তবা কথার জবাব দিয়েছি। এটাই ঘটনা।’
সোহান-থিসারার ঝামেলার পর খেলা শেষ হয়। কিন্তু ঝামেলা শেষ হয়নি। খেলা শেষে বিষয়টি নিয়ে আরও বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়েন লঙ্কান খেলোয়াড় কুসাল মেন্ডিস। মারমুখি আচরণ শুরু করেন তিনি। তার অঙ্গভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছিল, সোহানকে কাছে পেলে কয়েক ঘা বসিয়ে দেবেন!
তামিম কুসালকে নিবৃত করা চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু তিনি থামছিলেন না। শেষমেশ কিছু না হলেও ওই ম্যাচে জয়ের নায়ক মাহমুদউল্লাহকে দেখা গেছে সোহানকে শাসন করতে। বড় ভাই হিসেবে তিনি তা করতেই পারেন।
Powered by Blogger.